স্বাস্থ্য সময় প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রতিনিয়তই সক্রিয় থাকে দালাল ও ওষুধ চোর চক্র। আছে নবজাতক চুরির ঘটনা। হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল গাড়ি পাকিংয়ের। রোগী-স্বজনের জন্য বোঝা হয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সের গলাকাটা ভাড়া। যত্রতত্র বসানো হয় ভ্রাম্যমাণ দোকান। তবে এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধ করতে নতুন পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চতে বাড়ানো হচ্ছে তদারকি। হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দালাল ও চোর নিয়ন্ত্রণে বাড়ানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। গাড়ি পাকিং এবং অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নেয়া হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা। অতিরিক্ত দর্শনার্থী ঠেকাতে প্রবেশে চালু করা হচ্ছে পাস কার্ড।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, চমেক হাসপাতাল বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই এটির ওপর নির্ভরশীল। সুতারাং এ হাসপাতাললে কোনোভাবেই ক্রাইম জোন বানানো যাবে না। থাকতে পারবে না কোনো অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা। হাসপাতাল এলাকা, ওয়ার্ড ও অভ্যন্তরে সামগ্রিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দালাল ও ওষুধ চক্র ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি করা, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা, গাড়ি পার্কিংকে শৃঙ্খলায় আনাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে হাসপাতালে একটা দৃশ্যমান শৃঙ্খলা আসবে।
জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে ২৫৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। দালাল, ওষুধ চোর, নবজাতক চোর ঠেকাতে দ্বিগুণ করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই হাসপাতালের কোথায় কোথায় সিসিটিভি ক্যামেরার নেই তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাছাড়া, বর্তমানে হাসপাতালের সামনে এলোমেলোভাবে করা হয় গাড়ি পার্কিং। তাই সামনের মাঠকে পার্কিংয়ের জন্য ইজারা দিয়ে শৃঙ্খলায় আনা হবে। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে রোগীবান্ধব ভাড়া কার্যকর করা হচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালে অতিরিক্ত জনসাধারণ কমাতে আবারও পাস কার্ড চালু করা হবে। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিল, ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর ও ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ মাসে জামানতসহ পাস কার্ডের নিয়ম চালু করেছিল। তবে তা চালুর ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
অভিযোগ আছে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ার্ডকে ঘিরে অনেক দালাল, নবজাতক চোর ও ওষুধ চোর সক্রিয়। বিশেষ করে গাইনি, মেডিসিন, শিশু, সার্জারি ও অর্থোপেডিকস ওয়ার্ডের সামনে দালালরা প্রতিনিয়তই ঘুর ঘুর করে। এসব দালাল রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ল্যাবে নিয়ে যায়। দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক অসহায় রোগীকে অপ্রয়োজনীয়-অতিরিক্ত টাকাও খরচ করতে হয়। সুলভমূল্যে এবং প্রয়োজনে বাকিতে ওষুধ কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত ফার্মেসিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আছে সক্রিয় ওষুধ চোর চক্র। গত দুই সপ্তাহ আগেও একজন হাসপাতালে কর্মচারি ও একজন আউটসোর্সিং কর্মচারিকে ওষুধ চুরির ঘটনায় ধরা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে কর্মচারিকে বরখাস্তও করা হয়।




























