ওমিক্রনেই শেষ হতে পারে কোভিড মহামারী, চলছে নতুন টিকা উদ্ভাবনের কাজও

0
13
দ্রুত ছড়াতে থাকা ওমিক্রন ধরনটির মধ্য দিয়েই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চলমান মহামারী পর্ব পার করে এনডেমিক বা সাধারণ রোগের স্তরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি।
অবশ্য তিনি এটাও মানছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনও আসেনি।

এনডেমিক পর্যায়ে একটি ভাইরাসজনিত রোগ কোনো এলাকায় সাধারণ রোগে পরিণত হতে পারে। এর মানে হল, ওই এলাকায় রোগীটি থাকবে, মানুষ আক্রান্তও হবে, তবে এর প্রকোপ এবং ভয়াবহতা হবে মহামারী পর্যায়ের চেয়ে অনেক কম, এ রোগের ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।

সিএনএন লিখেছে, গত নভেম্বরের শেষে দিক থেকে পুরে বিশ্বে দ্রুত ছড়াতে থাকা করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনটি অনেক বেশি সংক্রামক হলেও আগের ধরনগুলোর মত ততটা গুরুতর অসুস্থতার কারণ হচ্ছে না। ফলে এর মধ্য দিয়েই পৃথিবীর মানুষ কোভিডের মহামারী পর্যায় অতিক্রম করতে পারে বলে আশা জাগছে।

“তবে সেটা তখনই ঘটবে, যদি আমাদের সামনে এমন একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট হাজির না হয়, যেটা আগের ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে,” বলেছেন ফাউচি।

সোমবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় হোয়াইট হাউসের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি বলেন, “ডেল্টা ভ্যারিয়েন্সের কিছু বৈশিষ্ট্য ওমিক্রনে দেখা যাচ্ছে না, এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। কিন্তু যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে এটা আক্রান্ত করছে, তাতে সেই সুবিধাটা কাজে নাও লাগতে পারে।”

এখন ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, সেটা টিকার মত স্থায়ীভাবে কাজ করবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি, কারণ নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলো নতুন নতুন ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হচ্ছে।  

নতুন টিকা তৈরি কতদূর

সিএনএন লিখেছে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন মোকাবেলায় এগিয়ে থাকতে নতুন টিকার উদ্ভাবনের কাজও এগিয়ে চলেছে। ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্টেফান ব্যানসেল সোমবার জানিয়েছেন, ওমিক্রন-ভিত্তিক কোভিড টিকার বিষয়ে তার কোম্পানি মার্চের মধ্যেই সুখবর দিতে পারে।

দাভোসে ডব্লিউইএফের একটি প্যানেল আলোচনায় তিনি বলেন, “আসন্ন সপ্তাহগুলোর মধ্যেই এই টিকা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে চলে আসবে। এবং আমরা আশা করছি মার্চের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে উপস্থাপনের জন্য দরকারি তথ্যউপাত্ত পেয়ে যাব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ধারণ করা যাবে তখন।”

ব্যানসেল জানান, ২০২৩ সালের শরৎ নাগাদ কিছু দেশে কোভিড ও ফ্লুর সমন্বয়ে তৈরি করা বুস্টার ডোজও পাওয়া যেতে পারে। তবে সব কিছু পরিকল্পনামাফিক হলেই সেটা সম্ভব।

চিকিৎসকেরা বলছেন, কোভিড-১৯ রোগের জটিলতা এড়াতে সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে টিকা ও বুস্টার ডোজ দেওয়া। প্রাথমিকভাবে টিকা নেওয়ার পর বুস্টার ডোজ শরীরে অ্যান্টিবডির মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তির মত গুরুতর অসুস্থতা ঠেকিয়ে দিতে পারে।

ইসরায়েলে টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার তথ্যউপাত্ত থেকে জানা যাচ্ছে, ফাইজার-বায়োএনটেক বা মডার্নার টিকায় অ্যান্টিবডি তৈরির সক্ষমতা আরও বেড়ে যায় তৃতীয় ডোজের থেকে বেশি। তবে ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকানোর মত সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তা এখনও যথেষ্ট না।