করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে অগ্রাধিকার পাবেন তিন শ্রেণীর নাগরিক

0
14

নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিয়োজিত সম্মুখসারির কর্মী, রোগ প্রতিরোধহীন ও ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। গতকাল রবিবার সকালে চসিকের সম্মেলন কক্ষে নগরীতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক নুসরাত সুলতানা, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও কোভিড ইউনিটের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. মো. আবদুস সাত্তার, চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

চসিকের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নতুন বছরে কোভিড-১৯ থেকে মুক্তির জন্য দেশবাসীর সামনে সভ্যতার নতুন অবদান উপস্থাপন করছেন। চলতি মাসের শেষে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেশে আসার কথা রয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আমরা আশাবাদি। এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোন সুয়োগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর পদক্ষেপের কারণে কোভিড-১৯ এ বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরমিাণ কম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কর্মীগণ, সম্মুখসারির কর্মীগণ, রোগ প্রতিরোধহীন ও ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানে সাপ্লাই ও কোয়ালিটি ম্যানেজম্যান্ট নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, ক্লিনারসহ সম্মুখসারির কর্মীগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাতে ভ্যাকসিন পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি যে গাইডলাইন দেয়া হয়েছে সেভাবেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। জাতীয় কমিটির পরামর্শ মতে কার্যক্রম চলবে। নগর এলাকার কমিটিতে এনজিওসহ আরও তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সংযুক্ত করা দরকার। ভ্যাকসিন বিতরণ প্রক্রিয়ায় চসিক এরিয়ার কমিটিকে সেন্ট্রাল বা প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি কমিটির সঙ্গে লিংক রাখা যায়ং।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ খান বলেন, করোনার ভ্যাকসিন কারা পাবেন তাঁর যৌক্তিক প্রাপ্যতার জন্য চারটি বিষয়ের উপর জোর দেয়া যায়। এগুলো হলো- ১. রেশন্যাল ২. ট্রান্সপারেন্সি অর্থ্যাৎ এনআইডি কার্ডের ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের প্রদান ৩. সার্ভিস ডিজাইন, অর্র্থ্যাৎ ভ্যাকসিন কিভাবে দেয়া, রাখা ও যথাস্থানে পৌঁছানো হবে- এ কার্যক্রম ও ৪. এসিউরেন্স অর্থ্যাৎ ধারাবাহিকভাবে এই ভ্যাকসিন সবাই পাবেন তার নিশ্চয়তা দেয়া। যাতে এ নিয়ে নগরবাসীর মাঝে কোন ভুল বার্তা না যায়।

চমেক হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. মো. আবদুস সাত্তার বলেন, ওয়ার্ল্ড হেলথ্ অর্গানাইজেশনের নির্দেশনা অনুসারে যে কোন রাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ নাগরিক (সিনিয়র সিটিজেন) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার ভ্যাকসিন পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই মতে রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেন হলেন ৬০-৬৫ বছর ঊর্ধ্বে নাগরিকগণ।